পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়া চৌমুহনীতে তীব্র যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলসহ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং অপরাধ দমনে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসব বিষয় নিয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে চৌমুহনী ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেড। বিকেল ৪টার দিকে পেকুয়া পৌরসভার ক্রেমলিন চৌধুরী প্লাজার সামনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চৌমুহনী ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের আহ্বায়ক এ.এম. রফিউল করিম মিন্টুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন সমিতির সদস্য মহি উদ্দিন।
সভায় পেকুয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি হারুনুর রশিদ, পেকুয়া থানার এস.আই. পল্লব, পেকুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. আবদুল্লাহ আনছারী, মাস্টার আনছার আলী, হেলাল উদ্দিন ছিদ্দিকী ও মোহাম্মদ হোছাইন বক্তব্য দেন।
সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, পেকুয়া চৌমুহনী উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচল রয়েছে। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত দখলের কারণে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দিনের বিভিন্ন সময়ে চৌমুহনী এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
তাদের অভিযোগ, যানজটের কারণে শুধু ব্যবসায়ীরা নন, পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারীরাও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছেন।
ব্যবসায়ীরা চৌমুহনী এলাকায় শৃঙ্খলিত পার্কিং ব্যবস্থা চালু, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দাবি জানান। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সড়ক ও ফুটপাতের স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
মতবিনিময় সভায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা চুরি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন অপতৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, একটি নিরাপদ ও যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে এলাকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসন, পুলিশ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, চৌমুহনী এলাকার যানজট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবেন।
